প্রতিবেদন

১৫ জেলার যে ৩৯ রেড জোনে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলো সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীতে এখনো ঘোষণা না এলেও ঢাকার বাইরে ১৫টি জেলার ৩৯টি রেড জোন অঞ্চলে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। দুই বারে এসব এলাকার নাম এবং সময় উল্লেখ করে ২১ জুন সাধারণ ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রথম দফায় ১০ জেলার ২৭টি এলাকা এবং দ্বিতীয় দফায় ৫ জেলার ১২টি এলাকা রেড জোন হিসেবে ঘোষিত হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, ‘লাল অঞ্চল ঘোষিত এলাকায় অবস্থিত সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধাস্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় কর্মরত এবং অন্য এলাকায় বসবাসরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও এ ছুটি প্রযোজ্য হবে।’ জরুরি পরিষেবা এ সাধারণ ছুটির আওতাবহির্ভূত থাকবে। কোন কোন ‘রেড জোনে’ কত দিন সাধারণ ছুটি থাকবে, আদেশে তাও নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।
২৭ এলাকাকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করে ২১ জুন থেকেই সাধারণ ছুটি দেয়া হয়। তবে বেশকিছু এলাকাকে ১৪ জুন থেকে রেড জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে। এ ১০ জেলা হলো চট্টগ্রাম, বগুড়া, চুয়াডাঙ্গা, মৌলভীবাজার, নারায়ণগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা, যশোর ও মাদারীপুর।
১০ জেলার যেসব এলাকা রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে তা হলো
চট্টগ্রাম: সিটি করপোরেশনের ১০নং ওয়ার্ডের উত্তর কাট্টলী।
বগুড়া: পৌরসভার চেলোপাড়া, নাটাইপাড়া নারুলি, জলেশ্বরীতলা, সূত্রাপুর, মালতিনগর, ঠনঠনিয়া, হারিপাড়ি ও কলোনি এলাকা।
চুয়াডাঙ্গা: দর্শনা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের পরানপুর গ্রামের রিফিউজি কলোনি এবং ৭নং ওয়ার্ডের থানাপাড়া এলাকা।
মৌলভীবাজার: শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নের ক্যাথলিক মিশন রোড, রূপশপুর, সবুজবাগ, মুসলিমবাগ, লালবাগ, বিরামপুর এবং শ্রীমঙ্গল পৌরসভার কালীঘাট রোড ও শ্যামলী এলাকা। কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের নন্দনগর, কাদিমপুর ইউনিয়নের মনসুর এবং কুলাউড়া পৌরসভা মাগুর ও মনসুর এলাকা।
নারায়ণগঞ্জ: রূপগঞ্জ উপজেলার রূপগঞ্জ ইউনিয়নের উত্তরে বালু ব্রিজ, দক্ষিণে কায়েতপাড়া, পূর্বে
কায়েতপাড়া এবং পশ্চিমে কাঞ্চন পৌরসভা এলাকা।
হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জ পৌরসভার ৬ ও ৯নং ওয়ার্ড। চুনারুঘাট উপজেলার ৩নং দেওরগাছ ইউনিয়ন। ৭নং উবাহাটা ইউনিয়ন ও ৯নং রানীগাঁও ইউনিয়ন এবং চুনারুঘাট পৌরসভা। আজমিরীগঞ্জ উপজেলার ১নং আজমিরীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন এবং জেলার মাধবপুর পৌরসভা এলাকা।
মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের অধীন মাঠপাড়া এলাকা।
কুমিল্লা: সিটি করপোরেশনের ৩নং ওয়ার্ডের কালিয়াজুরি, রেসকোর্স, শাসনগাছা, ১০নং ওয়ার্ডের ঝাউতলা, কান্দিরপাড়, পুলিশ লাইন বাদুড়তলা; ১২নং ওয়ার্ডের নানুয়ার দীঘিরপাড়, নবাববাড়ি চৌমুহনী, দিগম্বরীতলা এবং ১৩নং ওয়ার্ডের টমছম ব্রিজ, থিরা পুকুরপাড় ও দক্ষিণ চর্থা এলাকা।
যশোর: অভয়নগর উপজেলার চলিশিয়া, পিয়ারা, শ্রীধরপুর ও বাঘুটিয়া ইউনিয়ন এবং অভয়নগর পৌরসভার ২, ৪, ৫, ৬ ও ৯নং ওয়ার্ড এলাকা। চৌগাছা পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড এলাকা। ঝিকরগাছার বাঁকড়া ইউনিয়ন। ঝিকরগাছা পৌরসভার ২ ও ৩নং ওয়ার্ড এলাকা। কেশবপুর পৌরসভার ১ ও ৩নং ওয়ার্ড এলাকা। যশোর পৌরসভার ৪ ও ৬নং ওয়ার্ড এবং আরবপুর ও উপশহর ইউনিয়ন। শার্শা উপজেলার বেনাপোল পৌরসভার ২ ও ৩নং ওয়ার্ড ও শার্শা ইউনিয়ন।
মাদারীপুর: পৌরসভার ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬ ও ৭নং ওয়ার্ড এলাকা এবং বাহাদুরপুর, দুধখালী, মস্তফাপুর, রাস্তি ও কেন্দুয়া ইউনিয়ন। শিবচর পৌরসভার ১, ৪ ও ৫নং ওয়ার্ড এলাকা এবং শিবচর দ্বিতীয় খ-, বেহালা দক্ষিণ, বাঁশকান্দি, ভদ্রাসন, কাদিরপুর, মাদবরেরচর ও পাঁচ্চর ইউনিয়ন। কালকিনি পৌরসভার ১, ৪, ৫, ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ড এলাকা এবং ডাসার, গোপালপুর, আলিনগর ও শিকারমঙ্গল ইউনিয়ন। রাজৈর পৌরসভার ১, ২, ৩, ৫, ৬ ও ৮নং ওয়ার্ড এবং বদরপাশা, আমগ্রাম, কবিরাজপুর ও হোসেনপুর ইউনিয়ন।
২২ জুন জন প্রশাসন মন্ত্রণালয় ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী ও কুষ্টিয়ার ১২টি রেড জোনে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে আদেশ জারি করেছে।
সাধারণ ছুটির শর্তে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র লাল অঞ্চল (রেড জোন) ঘোষিত এলাকায় বর্ণিত সময়ের জন্য এ সাধারণ ছুটি কার্যকর থাকবে। এসব এলাকায় বসবাসরত সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের ক্ষেত্রে এ ছুটি প্রযোজ্য হবে।
এসব এলাকায় বসবাসরত কিন্তু কর্মস্থল অন্য এলাকায় তাদের জন্যও এ ছুটি কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপণে জানানো হয়েছে। জরুরি পরিসেবা এই ছুটির বাইরে থাকবে।