প্রতিবেদন

ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে করোনার সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারিভাবে সর্বস্তরে মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা করা হলেও এখনো প্রভাব পড়েনি; মাস্ক ছাড়াই ঘোরাফেরা ও দৈনন্দিন কাজ করছেন সাধারণ মানুষ। এতে সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে মানুষের বাড়ি ফেরা ও পশুর হাটকে কেন্দ্র করে জনসমাগম বেড়েছে। মাস্ক ছাড়াই লোকজনকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। এতে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মাস্ক নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা দরকার। এতেও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে প্রশাসনের উচিত জেল-জরিমানা করা।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সবার মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে পরিপত্র জারি করে এবং তা বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেয়। এতে বলা হয়, হাট-বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতারা মাস্ক ব্যবহার করবেন। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ এ নির্দেশনা সম্পর্কে জানেন না। জানলেও অনেকে মানছেন না। বিশেষ করে সড়কে নামা সিএনজিচালিত অটোরিকশার বেশিরভাগ যাত্রী-চালককে মাস্ক ছাড়া দেখা যায়।
আসন্ন ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে করোনার সংক্রমণ বিস্তার রোধে এবং জনগণকে সুরক্ষা দিতে দায়িত্বশীল সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক ওবায়দুল কাদের।
বনানীস্থ বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)-এর প্রধান কার্যালয়ে আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে সড়ক-মহাসড়কে যাত্রী সাধারণের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘœ করতে
করণীয় নির্ধারণ সংক্রান্ত সভায় নিজ বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটি ধর্মীয় উৎসব হওয়ায় সামাজিক ও ধর্মীয় বাস্তবতায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিআরটিএ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও পরিবহন-সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঈদ যাত্রায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের মধ্য দিয়ে করোনা সংক্রমণ আশঙ্কা রোধে কাজ করতে হবে।’
সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধি, টার্মিনাল প্রতিনিধি, বিআরটিএ, সিটি করপোরেশনসহ সব অংশীজনদের নিয়ে যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।’
বিআরটিএ’র মোবাইল কোর্ট সার্বক্ষণিক এসব মনিটর করবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি টিপ শেষে গাড়ির ভেতর ও বাহির জীবাণুমুক্ত করতে হবে।’ যেসব পরিবহন, মালিক-সমিতি ও সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাবে এবং জনস্বার্থ পরিপন্থি কাজ করবে, তাদের বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
পশুরহাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশু ক্রয়-বিক্রয় নিশ্চিত করতে পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, পশুরহাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশু ক্রয়-বিক্রয় নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, ‘মাস্ক ব্যতীত কেউ পশুরহাটে প্রবেশ করতে পারবে না।’ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে সকল ইউনিট প্রধানদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে বক্তৃতা প্রদানকালে আইজিপি এই কথা বলেন। আইজিপি আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে কোরবানির পশু পরিবহনকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের চাঁদাবাজি না হয় সেক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে পুলিশ কর্মকর্তাদেরকে কঠোর বার্তা দেন।
পুলিশ প্রধান বলেন, সড়ক ও নৌপথে কোরবানির পশুবাহী যানবাহনের চলাচল নির্বিঘœ করতে হবে। কোরবানির পশুবাহী গাড়ি অথবা ট্রলার কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া না থামানোর নির্দেশ দেন আইজিপি।
তিনি বলেন, হাইওয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ কোরবানির পশুবাহী গাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ক্যাম্প স্থাপন করবে। ঈদকে সামনে রেখে সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া তল্লাশীর নামে কোন গাড়ি থামানো যাবে না। তিনি বলেন, ট্রেনের টিকিট যাতে কালোবাজারি না হয় সে ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়াতে হবে। বাস এবং অন্যান্য পরিবহনে যেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
পুলিশ প্রধান বলেন, ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হবে। যাত্রা শুরুর সময় সকল ধরনের পরিবহনে জীবাণুনাশক ছিটানো নিশ্চিত করতে হবে।