প্রতিবেদন

করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় সাধারণ মানুষের আগ্রহ কমেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
জালিয়াতি, প্রতারণাসহ বিভিন্ন ঘটনা উদঘাটনের কারণে মানুষ করোনা ভাইরাস পরীক্ষায় আস্থা ও আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। সাথে সাথে কমেছে পরীক্ষার সংখ্যাও। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি এক ভার্চুয়াল সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছেন, প্রতারণার ঘটনা ঘটায় করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় মানুষের মনে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে, তেমনি আগ্রহও কমেছে। নমুনা সংগ্রহের পরে রেজাল্ট পেতে যাতে দীর্ঘ সময় না লাগে সে পরামর্শও দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।
এদিকে, বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা সংস্থা বা আইইডিসিআর’র সাবেক প্রধান এবং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের সাবেক উপদেষ্টা ডা. মোজাহেরুল হক সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, করোনার ভুয়া পরীক্ষার অভিযোগের কারণে পরীক্ষার ওপরে জনগণের অনাস্থা বেড়েছে।
করোনার নমুনা পরীক্ষার সংখ্যাও কমেছে। জুন মাসে গড়ে নমুনা পরীক্ষা করা হতো দৈনিক ১৭ থেকে ১৮ হাজার, এখন তা গড়ে নেমে এসেছে ১১ থেকে ১২ হাজারে।
সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে করোনা সংক্রমণ বিষয়ে জনমানুষের মাঝে ভয়-ভীতি কমে গেছে। নমুনা পরীক্ষা সংখ্যাগত বিচারে কমেছে। কিন্তু জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ধারণা লক্ষণ ও সংক্রমণ লুকিয়ে অনেকে চলাফেরা করছেন কিন্তু পরীক্ষা করাচ্ছেন না। অপরদিকে নমুনার সংখ্যা কমলেও আক্রান্তের হার শতকরা হিসাবে বাড়ছে।’
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, নমুনা পরীক্ষায় মানুষের আগ্রহ যেমন কমেছে, দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার কারণে কারও কারও আস্থাও কমতে পারে। এছাড়া কোথাও কোথাও নমুনা সংগ্রহের পর রেজাল্ট জানাতে দীর্ঘ সময় নিচ্ছে ল্যাবগুলো। এতে মানুষের মাঝে আস্থাহীনতা তৈরি হতে পারে, যা শুভ লক্ষণ নয়। একদিকে নমুনা সংগ্রহের আওতা বাড়ানো জরুরি অপরদিকে স্বল্পতম সময়ে রেজাল্ট জানিয়ে দেওয়া জরুরি। কখনো কখনো রেজাল্ট পেতে পেতে রোগীর অবস্থার অবনতি হতে হতে মৃত্যুপথযাত্রী হয়ে যাচ্ছে অথচ ফলাফল আসছে না। এমন পরিস্থিতি গণমাধ্যমে আসছে। আমি সংশ্লিষ্টদের কার্যকর
সমন্বয় মাধ্যমে দ্রুত ফলাফল জানিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহ্বান জানাচ্ছি। পরীক্ষার জন্য নমুনা গ্রহণের প্রক্রিয়াও গ্রহণ করতে হবে।
দরিদ্রদের বিনামূল্যে নমুনা পরীক্ষার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে মনে করছেন অসহায় দরিদ্র মানুষকে ফি দিয়ে পরীক্ষা করাতে হবে বলে নমুনা পরীক্ষা থেকে দূরে থাকছে। করোনার অভিঘাতে অনেক মানুষ এখনো কর্মহীন অসহায়। দরিদ্র মানুষের আর্থিক অক্ষমতার কথা বিবেচনা করে ফি ছাড়া পরীক্ষার সুযোগ প্রদানের বিষয়টি বিবেচনার জন্য আমি সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানাচ্ছি।’
বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে সরকার নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে উল্লেখ করে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশ ভ্রমণের আগে সরকার নির্ধারিত ষোলটি প্রতিষ্ঠান থেকে করোনার সনদ গ্রহণ করতে হবে। আমি নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষা করানোর জন্য বিদেশগামী ভাই-বোনদের অনুরোধ করছি। আমাদের কিছুসংখ্যক জনশক্তির অবহেলা এবং তথ্য গোপনের ফলে ২/৩টি দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা অস্বস্তিতে পড়েছেন। এমন অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি আমরা চাই না।’
উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস শনাক্তের জন্য নমুনা পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতির প্রথম ঘটনা ধরা পড়ে গত ৪ জুন। এদিন সাভার থেকে দুই ব্যক্তি গ্রেপ্তার হওয়ার পর জানা যায়, তারা সাভারের ডেনিটেক্স নামে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের করোনার জাল সনদ সরবরাহ করে। এরপর মুগদা জেনারেল হাসপাতালসহ দেশের একাধিক জায়গায় করোনা পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতির তথ্য প্রকাশ হতে থাকে।
সর্বশেষ রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক সাহেদ ও জেকেজির আরিফ-সাবরিনার প্রতারণার ভয়ংকর তথ্য বের হয়ে আসতে থাকে। তাদের প্রতারণার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। শিগগিরই প্রতিবেদন প্রকাশ করবেন তারা।
গত ৬ জুলাই রাজধানীর উত্তরায় রিজেন্ট হাসপাতালে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসায় প্রতারণার ভয়াবহ তথ্য উঠে আসে। এর আগে পুলিশের অভিযানে ধরা পড়ে জেকেজি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। যারা করোনা পরীক্ষার নামে জালিয়াতি করে ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে আসছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।