কলাম

দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœকারী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন

ক্ষুদ্র আয়তনের একটি উন্নয়নশীল দেশ হয়েও বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সারাবিশ্বের নিকট প্রাকৃতিক দুর্যোগের নিবিড় সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবহার এবং দারিদ্র দূরীকরণে তার ভূমিকা, জনবহুল দেশে নির্বাচন পরিচালনায় স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুতা আনয়ন, বৃক্ষরোপণ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকের ইতিবাচক পরিবর্তন প্রভৃতি ক্ষেত্রে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে জন্ম নেওয়া এই বাংলাদেশকে আজকের অবস্থানে আসতে অতিক্রম করতে হয়েছে হাজারো প্রতিবন্ধকতা। যুদ্ধ বিধ্বস্ত, প্রায় সর্বক্ষেত্রে অবকাঠামোবিহীন সেদিনের সেই সদ্যজাত জাতির সুদীর্ঘ অর্জনের পরিসংখ্যানও নিতান্ত অপ্রতুল নয়। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ৮টি লক্ষ্যের মধ্যে শিক্ষা, শিশুমৃত্যুহার কমানো এবং দারিদ্র হ্রাসকরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য উন্নতি প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছে। নোবেল বিজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের করা মন্তব্য এক্ষেত্রে প্রণিধানযোগ্য। তাঁর মতে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশ্বকে চমকে দেবার মতো সাফল্য আছে বাংলাদেশের। বিশেষত শিক্ষা সুবিধা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার ও জন্মহার কমানো, গরিব মানুষের জন্য শৌচাগার ও স্বাস্থ্য-সুবিধা প্রদান এবং শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম অন্যতম। যে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিদেশে প্রতিষ্ঠিত, সে বাংলাদেশে আজ গুটিকয়েক অসৎ লোকের খপ্পরে পড়েছে। করোনা মহামারীর মধ্যেও থেমে নেই তাদের কার্যক্রম।
এসব অসৎ লোকের কারণে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকদেরও হয়রাণির শিকার হতে হচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে বিদেশ যাত্রীদের করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট বাধ্যমূতালক করা হয়েছে। আর এর জন্য করোনার জাল সার্টিফিকেটকে দায়ী করছেন বিদেশ যাত্রীরা। জাল সার্টিফিকেটের কারণে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে বলে মনে করেন তারা।
সীমিত সম্পদের মধ্যে রাষ্ট্রকে নানান দিকে খেয়াল রাখতে হয়। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র-বিমোচনসহ বিভিন্ন খাতে প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পদ বরাদ্দ না হবার সমস্যা বোধগম্য। কিন্তু এই সীমিত সম্পদ নিয়ে যারা উল্টাপাল্টা করে, কিংবা দেশের ভাবমূর্তিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্নবিদ্ধ করেÑ তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার শক্তি তো আমাদের কম নয়। করোনার অনিশ্চিত অর্থনীতিতে জীবিকা ধরে রাখা, কিংবা বিদেশে পণ্য রপ্তানি সবকিছুই নির্ভর করবে আমরা করোনার স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবেলায় কি করছি। অথচ অবাক হয়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে করোনা বাণিজ্যের নগ্ন মুখ। যারা করোনা টেস্টের ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়েছে, কিংবা ঠিকমতো টেস্টই করেনি তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নিচ্ছি তার ওপর নির্ভর করবে
আন্তর্জাতিক পরিম-লে এদেশের ভাবমূর্তি কী হয়। আর যদি আন্তর্জাতিক পরিম-লে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে আমাদের অবস্থান তৈরি হয়, তাহলে এর প্রভাব হবে ভয়াবহ। আমাদের পণ্য রপ্তানি, বিদেশের শ্রমবাজার এ প্রবেশ সবই পড়বে ভোগান্তিতে। এ ভাইরাসের সংক্রমণ সহসাই যাবে বলে মনে হয় না। সেজন্য দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœকারী এসব ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি।