প্রতিবেদন

পশুর হাট ব্যবস্থাপনা, ঈদযাত্রা নিয়ে ডিএমপির নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
পশুর হাট ব্যবস্থাপনা, ঈদযাত্রাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছে। ডিএমপি কমিশনার মুহা. শফিকুল ইসলাম এসব নির্দেশনা তুলে ধরেন।
সম্প্রতি ঢাকা মহানগর পুলিশ সদর দপ্তরে ঈদুল আজহা ও সার্বিক আইন শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থা সংক্রান্ত সমন্বয় সভায় কমিশনার বলেন, হাট ইজারাদাররা হাটে স্থায়ী খাবারের দোকান ও টি স্টল বসাবেন। কোনো প্রকার ভ্রাম্যমাণ দোকান বা হকার হাটের মধ্যে বসতে দেওয়া যাবে না। যে ব্যক্তিকে হাটে স্থায়ী খাবারের দোকান দেওয়া হচ্ছে, তার পরিচয় থানায় জমা দেওয়ার জন্য ইজারাদারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
হাটে ব্যাংকের অস্থায়ী বুথ স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, জাল টাকা শনাক্তে হাটে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে মেশিন বসানো হবে।
গরু বহনকারী ট্রাকগুলোকে একটি শৃংখলার মধ্যে আনতে ক্রাইম বিভাগের উপ-কমিশনাদেরকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, গরু নিয়ে হাটে আগত ট্রাকগুলো শৃংখলার মধ্যে রাখতে হবে। গাড়ির নম্বর ও চালকদের পরিচয় এবং ছবি তুলে পুলিশের কাছে দিতে হবে।
বাস মালিকদের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে কমিশনার বলেন, দেখা যায় করোনায়
আক্রান্তরা ঢাকা থেকে যাচ্ছেন ও আসছেন। এতে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। কোনো যাত্রীর কাশি ও জ্বর থাকলে গাড়িতে উঠতে দিবেন না।

ইজারাদারদের প্রতি ডিএমপির নির্দেশনা
নির্ধারিত তারিখের আগে হাটে পশু না আনা, চৌহদ্দির বাঁশ দিয়ে ঘিরে রাখা, চৌহদ্দির বাইরে হাট না বসানো, পশু বহনকারী ট্রাকের সামনে হাটের নাম ব্যানারে লিখে রাখা, এক হাটের পশু অন্য হাটে না নামানো, নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত হাসিল আদায় না করা, হাট এলাকায় সিসিটিভি স্থাপন ও মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের স্বাস্থবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করা, জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা, পর্যাপ্ত সংখ্যক সেচ্ছাসেবক দৃশ্যমান আইডি কার্ডসহ নিয়োগ করা, টাকা পরিবহনে পুলিশের মানি এস্কর্ট সেবা গ্রহণ করা, হাটের মধ্যে স্থায়ী খাবারের দোকান স্থাপন করা এবং কোরবানির পশু ব্যবসায়ীগণকে মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টি সম্পর্কে সচেতন করতে লিফলেট দেওয়া ও মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা।

হাটের জন্য স্বাস্থ্য বিধিমালা
প্রতিটি হাটের প্রবেশ পথ ও প্রস্থানের পথ পৃথক করতে হবে। হাটে প্রবেশের মুখে প্রয়োজনীয় হাত ধোয়ার জন্য বেসিন, পানির ট্যাংক ও সাবান এবং পৃথকভাবে হ্যান্ড সেনিটাইজার রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। হাটে প্রবেশের মুখে প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা মাপার যন্ত্রসহ লোক রাখতে হবে। ফেস মাস্ক ছাড়া কোনো লোককে হাটে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। হাটে সামাজিক দূরত্ব কমপক্ষে ৩ ফুট কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে। করোনাভাইরাস সন্দেহজনক উপসর্গ যেমন জ্বর, সর্দি-কাশি, শরীর ব্যাথা ইত্যাদি নিয়ে কোনো ব্যক্তি কোনক্রমেই হাটে প্রবেশ করতে পারবে না। যত কম সময়ে সম্ভব কোরবানীর পশু কিনে হাট ত্যাগ করতে হবে। একজন বিক্রেতার নিকট বেশী ক্রেতা অযথা ভিড় করা যাবে না। অসুস্থ প্রাণী কোনক্রমেই হাটে বেচাকেনার জন্য আনা যাবে না। শিশু ও ষাটোর্ধ ব্যক্তিদের হাটে প্রবেশে নিরুৎসাহিত করতে হবে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিধি অমান্যকারীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চামড়া পাচার রোধ এবং
ক্রয়-বিক্রয়কালে ব্যবস্থা
নগদ অর্থ বহনকালে যানবাহন সরবরাহ সাপেক্ষে মানি এস্কর্ট প্রদান করা হবে। চামড়া ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ নিয়ে নিরাপদ স্থানে রাত্রি যাপনের পরামর্শ দেয়া হয়। কাঁচা চামড়া পাচার রোধে ঢাকা হতে বহিঃগমন পথগুলো থাকবে চেকপোস্ট এবং নদী পথে থাকবে নৌ-টহলের ব্যবস্থা রাখা হবে। ঢাকার বাহির থেকে শুধুমাত্র কাঁচা চামড়াবাহী যানবাহন ঢাকায় প্রবেশ করবে। কোনো কাঁচা চামড়াবাহী যানবাহন ঢাকা থেকে বাহিরে যেতে পারবে না। চামড়া ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যাপারে কেউ যাতে সিন্ডিকেট করতে না পারে তার ব্যবস্থা করা হবে। আমিন বাজার টার্মিনালের পাশে রাস্তার উপর কাঁচা চামড়া রাখা যাবে না। হাজারীবাগ এলাকায় রাস্তার উপর রাত ১১টার পর কাঁচা চামড়া রাখা যাবে না। কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বাস, লঞ্চ টার্মিনাল, রেল স্টেশনকেন্দ্রিক নিরাপত্তা
চালক, হেলপার ও যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। যানবাহনের ফিটনেস, ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন ইত্যাদি টার্মিনাল ছাড়ার পূর্বে যাচাই করতে হবে। অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন রোধ, পণ্যবাহী ট্রাকে যাত্রী পরিবহন বন্ধ, বাস ও ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ নিষেধ। টিকেট কালোবাজারি ও যাত্রী হয়রানি রোধ করা হবে। প্রতিটি বাস টার্মিনালে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হবে। প্রতিটি বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল এবং রেলওয়ে স্টেশনে পুলিশ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে।

ঈদ পরবর্তী নিরাপত্তা
ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্বর্ণের দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসা-বাড়ি, ভাড়াটিয়াদের নিরাপত্তা সংক্রান্তে সচেতনতামূলক পরামর্শ প্রদান করা হবে। বাসা, অ্যাপার্টমেন্ট, প্রতিষ্ঠান মালিকদের সিসি
ক্যামেরা স্থাপন ও নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রাইভেট নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ করতে হবে। ঈদের ছুটিকালীন আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের লক্ষ্যে দৃশ্যমান পুলিশিং বৃদ্ধি করা হবে।
সভায় ঢাকা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, বাংলাদেশ ব্যাংক, ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশন, বাংলাদেশ রেলওয়ে, ফায়ার সার্ভিস, র‌্যাব, নৌ পুলিশ, বাংলাদেশ সড়ক-পরিবহন মালিক সমিতি, পশুর হাটের ইজারাদার ও বাংলাদেশ টেনারী এসোসিয়েশনের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।