প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

করোনাকে সাথে নিয়েই চালিয়ে যেতে হবে জীবন-জীবিকার লড়াই!

বিশেষ প্রতিবেদক
মহামারি করোনা ভাইরাসের সময়ে এটিকে মোকাবেলা করে টিকে থাকার জন্য একটি ‘নতুন স্বাভাবিক’ উপায় বের করতে বিশেষজ্ঞদের সাথে নিয়ে কাজ করছে বিশ্বের সকল দেশের সরকারপ্রধান। লকডাউনে বিশ্বের কোটি-কোটি মানুষ কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়ে। তাই অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঠেকাতে বিশ্বব্যাপী জোয়ার ওঠে, ‘করোনাকে সাথে নিয়েই চালিয়ে যেতে হবে জীবন-জীবিকার লড়াই!
সাধারণ ছুটির শুরুতে দেশে সরকারি-বেসরকারিভাবে সাহায্য-সহযোগিতা কিছুটা স্বস্তি দিলেও খাদ্য ও টাকার সংকট বাড়তে থাকায় অনুপায় মানুষ যোগ দিচ্ছিল জীবিকার মিছিলে। জনগণের পাশাপাশি সরকারও ধীরে ধীরে শিথিল করছিল নিষেধাজ্ঞা। সেকারণে ক্রমেই গতি ফিরছে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে। দেশের অর্থনীতি এগিয়ে নিতে প্রথমে দোকান ও বেসরকারি অফিস খুলে দেয়া হয় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। তারপর সময়সীমা বাড়াতে থাকে সরকার। এছাড়া সরকারি সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আগের মতো সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অফিস করতে নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় প্রাণ ফিরে পেতে শুরু করেছে অর্থনীতি। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, ঈদের ছুটি শেষে অনেকেই কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। এতে রাস্তাঘাটে কিছুটা যানবাহন বেড়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই চিরচেনা রূপে ফিরবে রাজধানী।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর কলকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল করে দেওয়ার মতো সাহসী সিদ্ধান্তের ফলেই অর্থনীতির কালো মেঘ কেটে যাচ্ছে।
গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলায় গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে জরুরি সেবা, কাঁচাবাজার, নিত্যপণ্য ও ওষুধের দোকান ছাড়া সব বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর মধ্যে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট, শপিং মল খুলে দেওয়া হয়। এরপর স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশনা দিয়ে গণপরিবহনও চালু করা হয়। সর্বশেষ ঈদুল আজহার আগে দোকানপাট ও বিপণিবিতান রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
দুই মাসেরও বেশি সময় স্থগিত থাকার পর গত ১৬ জুন থেকে বাংলাদেশ থেকে
আন্তর্জাতিক রুটে বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। আবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামী ১৫ আগস্টের পর পর্যায়ক্রমে সব রুটের যাত্রীবাহী
আন্তঃনগর ট্রেন চালু করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
সবকিছু খুলে দেয়ার পাশাপাশি রাজস্ব আয়, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান জোরদার করতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোয় নীতি সহায়তা জোরদার এবং প্রণোদনা প্যাকেজ দ্রুত বাস্তবায়ন করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

করোনার ধাক্কায় পাওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে সব দেশেরই সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু এই সমস্যার মধ্য দিয়েই কীভাবে আমাদের দেশের অর্থনীতি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় সেদিকে লক্ষ্য রেখে কাজ করতে হবে। আমাদের বিনিয়োগ পরিবেশটাকে আকর্ষণীয় করতে হবে।’
গত ৬ আগস্ট বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) গভর্নিং বডির সভার প্রারম্ভিক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবকাঠামোর উন্নয়ন না হলে দেশে কখনো বিনিয়োগ আসতে পারে না। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে নৌপথ, রেলপথ, আকাশপথে যোগাযোগ উন্নত করার জন্য তার সরকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। উন্নয়নটা যাতে একটা জায়গায় না হয়ে সারা বাংলাদেশে হয় সে ব্যবস্থা তার সরকার নিয়েছে। যেখানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ সহজে করা যাবে এবং শ্রমিকও খুব সহজে পাওয়া যাবে।
দেশে বিদ্যুতের উদ্বৃত্ত আছে জানিয়ে তিনি বলেন, গ্যাসের সমস্যা সমাধানে নিজেদের গ্যাস উত্তোলনের ব্যবস্থার পাশাপাশি সরকার এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা কর অবকাশের সুবিধা দিয়েছি, সারা বাংলাদেশে একশ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে কর রেয়াত দেওয়া হচ্ছে, মূলধনি সরঞ্জাম আমদানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুযোগ আমরা দিচ্ছি।
তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের একটা ধাক্কা আমাদের এসেছে এটা ঠিক, কিন্তু আবার একটা সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে। সেটা কিন্তু মাথায় রাখতে হবে। আমাদের আরও বেশি বৈদেশিক বিনিয়োগ আনতে হবে, এটার সুযোগ আছে। অনেক দেশে এখন ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ। আমাদের জনসংখ্যা আছে, জমি তৈরি আছে, অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা আছে। এই সুযোগটায় আমরা কিন্তু ইনভেস্টমেন্ট আরও বেশি আকর্ষণ করতে পারি এবং আনতে পারি।
তিনি আরও বলেন, আমরা জাতিসংঘ নির্ধারিত এমডিজি খুব দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করেছি। এখন এসডিজি (সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল) বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। যে কারণে ইতিমধ্যে আমরা কতকগুলো বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। যার মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন অন্যতম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম ব্যবসা-বাণিজ্য-শিক্ষাÑ সবকিছু সহজ করার জন্য আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ব। সেই ডিজিটাল বাংলাদেশ করতে পেরেছি বলেই আজ আমরা এই রকম একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও এখানে বসে বিডার গভর্নিং বোর্ডের সভা করতে পারছি।

স্বাভাবিক কার্যক্রমে সরকারি অফিস
সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আগের মতো সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অফিস করতে হবে বলে মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
করোনাভাইরাসের কারণে মন্ত্রণালয়গুলো যে রোস্টার সিস্টেমে কাজ করছিল, সেটিও বাতিল করা হয়েছে। ৬ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন গণমাধ্যমকে এ কথা জানিয়েছেন।
সচিব বলেন, এখন থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাভাবিক নিয়মে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস করতে হবে। বাসায় থেকে কিংবা রোস্টারে কাজ করার আর কোনো সুযোগ নেই। তবে অসুস্থ, বয়স্ক ও সন্তানসম্ভবা কর্মকর্তারা অফিসে আসতে পারবেন না, সেটাও বলা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সব মন্ত্রণালয়কে এ নির্দেশনা কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

নতুন স্বাভাবিক উপায়ে
চলবে গণপরিবহন
মহামারি করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) সময়ে এটিকে মোকাবেলা করে টিকে থাকার জন্য গণপরিবহনকে অবশ্যই একটি ‘নতুন স্বাভাবিক’ উপায় বের করতে হবে। উদ্ভুত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়াতে আরো প্রযুক্তি নির্ভর হতে হবে এই খাতকে, যা ভবিষ্যত বিপর্যয় মোকাবেলাতেও সক্ষম। এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)’র এক নতুন প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে।
এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলে কোভিড-১৯ ও পরিবহনে খাতের দিক নির্দেশনা শিরোনামে প্রতিবেদনটিতে পরিবহন খাতে চলমান মহামারির বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।
এডিবি’র প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লকডাউনের কারণে লাখ লাখ মানুষ এ বছর বাড়ি থেকেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে কাজ করতে বাধ্য হয়েছে। স্কুলগুলো ই-লার্নিংয়ে পরিণত হয়েছে এবং ভোক্তারা অনলাইনের মাধ্যমে খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী কেনাকাটা করছে।
এতে বলা হয়, যেখানে আগে শহরগুলোতে মানুষ পরিবেশবান্ধব, পর্যাপ্ত ও সাশ্রয়ী এই গণপরিবহনগুলোতে ভ্রমণ করত। কিন্তু করোনার ফলে গণপরিবহনগুলো কিছুদিন বন্ধ রেখে পুনরায় চালুর পর এগুলোকে করোনা পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। এর চেয়ে প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ও হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছতেই মানুষ সাচ্ছন্দ বোধ করছে।
এডিবি’র নলেজ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট বামবাং সুসান্তনো বলেন, ‘গণপরিবহনের স্বক্ষমতার ক্ষেত্রে দুটি প্রধান সংকট হচ্ছে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং গণপরিবহনের উপর সাধারণ মানুষের নির্ভরতা ফিরিয়ে আনা।’
করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে কঠোর লকডাউনের কারণে অর্থনীতিতে রুগ্ন হয়ে গেছে। অপরদিকে কলকারখানা ও যানবাহন বন্ধ থাকায় এই সময়ে ধোঁয়া ও কাবর্ণ নিঃসরণ না হওয়ায় বায়ু দূষণ হ্রাস পেয়ে অনেক নগরীর আকাশ বাতাস পরিচ্ছন্ন ও নির্মল হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বিমানবন্দর গণপরিবহনগুলোতে চাহিদা ব্যবস্থাপনা পদক্ষেপ ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।
অধিকাংশ দেশের অর্থনীতিতেই গণপরিবহনের একটি বড় ধরনের ভূমিকা রয়েছে। তাই করোনাকালে খাতটির অনুকূলে সরকারের নীতি ও অর্থনৈতিক সমর্থনের প্রয়োজন, যাতে করে গণপরিবনগুলো তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে এবং যাত্রী ও পণ্যসামগ্রী একটি টেকসই উপায়ে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারে।

আন্তর্জাতিক রুটে চলছে বিমান
দুই মাসেরও বেশি সময় স্থগিত থাকার পর গত ১৬ জুন থেকে বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক রুটে বিমান চলাচল শুরু হয়। গত ১ জুন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচলের অনুমতি দেয়।
এদিকে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ১০ আগস্ট থেকে আবারও চালু হবে লন্ডন-সিলেট রুটে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট। ফ্লাইটটি সিলেটে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাবে।
জানা গেছে, ১০ আগস্ট সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট লন্ডন থেকে সরাসরি সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। এর মধ্য দিয়ে আবারও প্রবাসী-অধ্যুষিত সিলেটবাসীর সরাসরি লন্ডন-সিলেট রুটে ফ্লাইট চালুর দাবি পূরণ হতে যাচ্ছে।

১৫ আগস্টের পর চালবে
সব আন্তঃনগর ট্রেন
স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামী ১৫ আগস্টের পর পর্যায়ক্রমে সব রুটের যাত্রীবাহী আন্তঃনগর ট্রেন চালু করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ৯ আগস্ট রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে এসব ট্রেনের অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে যাত্রী পরিবহন করা হবে।
বর্তমানে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন রুটে প্রায় ১৭টি আন্তনগর ট্রেন চলাচল করছে। এর আগে গত ৩১ মে ঢাকা থেকে বিভিন্ন রুটে আট জোড়া ট্রেন চলাচল শুরু করে। এরপর ৩ জুন থেকে আরো ১১ জোড়া ট্রেন চলাচল শুরু হয়।

ভার্চুয়াল ও শারীরিক দুভাবেই
চলবে বিচারকাজ
ভার্চুয়াল ও শারীরিক উপস্থিতি দুভাবেই শুরু হয়েছে হাইকোর্টের বিচার কার্যক্রম। ৬ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের ফুলকোর্ট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে ভিডিও কনফারেন্সে অনুষ্ঠিত সভায় আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের সব বিচারপতি অংশ নেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সভায় হাইকোর্টের
অন্তত ৪০ জন বিচারপতি শারীরিক উপস্থিতিতে বিচারকাজ পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। আর যারা শারীরিক উপস্থিতিতে বিচারকাজ পরিচালনায় আগ্রহী নন, তাদের ভার্চুয়াল বেঞ্চে বিচারকাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয় ফুলকোর্ট সভায়। এ ছাড়া সভায় চলতি বছর আগামী কয়েক মাসে উচ্চ আদালতের সব অবকাশ ছুটি বাতিলের পক্ষে মত দেন বেশির ভাগ বিচারপতি।
স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে অবিলম্বে সুপ্রিম কোর্টের নিয়মিত বিচার কার্যক্রম চালু করতে গত ৮ জুলাই প্রধান বিচারপতির কাছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষে আবেদন করেন সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। সেখানে বেশ কয়েকটি প্রস্তাবনাও ছিল। এরপর ২৬ জুলাই ওই চিঠির বিষয়টি উল্লেখ করে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে আবারও প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন জানায় সমিতি। এরই প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে ৬ আগস্ট ফুলকোর্ট সভা আহ্বানের কথা জানানো হয়।
করোনাভাইরাসজনিত সংকটময় পরিস্থিতির কারণে উচ্চ ও বিচারিক আদালতে গত মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে নিয়মিত বিচারকাজ বন্ধ ছিল। পরে ১১ মে থেকে বিচারিক আদালতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে শুধু হাজতি আসামিদের জামিন শুনানি ও উচ্চ আদালতে সংক্ষিপ্ত পরিসরে মামলার শুনানি শুরু হয়।
এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনায় অধস্তন বিভিন্ন আদালতে আত্মসমর্পণ ও নালিশি মামলাসহ দেওয়ানি ও উত্তরাধিকার মামলার আবেদন গ্রহণ শুরু হলেও দীর্ঘদিন নিয়মিত বিচার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জীবিকার প্রশ্নে বিভিন্ন সময়ে আদালত খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আইনজীবীরা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারিক আদালতে নিয়মিত বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে সাড়ে চার মাস বন্ধ থাকার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ফের শারীরিক উপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল।
তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর ভার্চুয়াল মাধ্যমে মামলার বিভিন্ন বিষয়ে শুধু তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন বিচারপতিরা। এটিও বিচারকাজের একটি অংশ। তবে শারীরিক উপস্থিতিতে দীর্ঘদিন পর ৯ আগস্ট বিচারকাজ শুরু হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেবল দুজন আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেবেন।’

ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে মানুষ
করোনাভীতি কাটিয়ে মানুষ শামিল হচ্ছে জীবিকার মিছিলে। আর সরকারের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের কারণে ক্রমেই গতি ফিরছে দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে। ঈদুল আজহাকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য, গণপরিবহন সচল থাকায় অর্থনীতিতে প্রাণসঞ্চার হয়েছে। ঈদের সময় রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। নেতিবাচক ধারায় চলে যাওয়া রপ্তানি খাতও নতুন অর্থবছরে ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। পুঁজিবাজারেও চাঙ্গাভাব দেখা যাচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্ত অবস্থানে আছে। করোনা অর্থনীতির নানা খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করলেও কৃষি তুলনামূলক শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির হিসাবে, ঈদুল আজহার সময় ১২ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। করোনার মধ্যে এই ঈদে কাক্সিক্ষত বিক্রি না হলেও ব্যবসা আবার চালু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে। সাধারণ ছুটির কারণে মানুষ অনলাইন শপিংয়ে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। অবশ্য দোকানপাট স্বল্প পরিসরে খোলার পর মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে বের হচ্ছে।
সরকারের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের কারণে ব্যবসায়ীরা কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, কোরবানির ঈদের সময় বিক্রি ১০ শতাংশ বেড়েছে। কোরবানির ঈদে অনলাইন এবং ফিজিক্যাল লাইফস্টাইল স্টোরগুলোতে কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটা বেড়েছে। এ ছাড়া গ্রোসারি, হোম অ্যাপ্লায়েন্সসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্য জিনিসপত্রের অনলাইন কেনাকাটাও ক্রমে বাড়ছে। আশা করা যাচ্ছে, এই লেনদেনের পরিমাণ খুব শিগগির আরো স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’
করোনার কারণে এবার দেশে পশু কোরবানি হয়েছে ৫ শতাংশ কম। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার এক কোটি পশু কোরবানি হয়েছে। গতবার এই সংখ্যা ছিল এক কোটি ছয় লাখ।
অনলাইন কোরবানির পশুর হাট থেকেও এবার ২৭ হাজার গরু-ছাগল ও অন্যান্য পশু বেচাকেনা হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রকোপের মধ্যেও শুধু জুলাই মাসে প্রবাসীরা ২৬০ কোটি মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। একক মাস হিসেবে এর আগে কখনো এত পরিমাণ রেমিট্যান্স আসেনি। এর আগে জুন মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮৩ কোটি ডলার। প্রবাসী আয়ের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকার জন্য সরকারের সময়োপযোগী ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রভাব রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।