অর্থনীতি

রেকর্ড ভেঙে এক মাসে ২৬০ কোটি ডলার প্রবাসী আয়

স্বদেশ খবর ডেস্ক
ঈদের আগের মাস জুলাইয়ে প্রায় ২৬০ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে, যা টাকার অঙ্কে ২২ হাজার ৯৫ কোটি টাকা। কোনো একক মাস হিসেবে দেশের ইতিহাসে এত প্রবাসী আয় কখনো আসেনি। মূলত সরকার ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়ায় মহামারী করোনাভাইরাসের মধ্যেও প্রবাসী আয়ে এমন ঊর্ধŸগতি তৈরি হয়েছে। এর আগে একক মাস হিসেবে জুনে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছিল ১৮৩ কোটি ডলার। এক মাসের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৪২ শতাংশ। বিপুল পরিমাণের প্রবাসী আয়ের কারণে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দিয়েছে। টাকার মান ধরে রাখতে ব্যাংক থেকে ডলার কিনে দাম স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপরও ডলারের বিপরীতে টাকা কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ডলারের বিনিময়মূল্য ৮৪ টাকা ৯৫ পয়সায় আটকে রাখা হলেও এখন তা ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় নেমেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, করোনার কারণে এখন হুন্ডি অনেকটা বন্ধ রয়েছে। এছাড়া বৈধ পথে প্রবাসী আয়ে সরকার ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে। এখন ব্যাংকে ডলারের দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। এর বাইরে অনেক ব্যাংকও সরকারি প্রণোদনার সঙ্গে আরও এক শতাংশ নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে। এসব কারণেই বৈধ পথে টাকা পাঠাতে উৎসাহী হচ্ছেন প্রবাসীরা। প্রবাসী আয়ে প্রণোদনা দিতে সরকার বাজেটে ৩ হাজার ৬০ কোটি বরাদ্দ রেখেছে। বৈধ পথে রেমিট্যান্স বাড়ায় করোনা পরিস্থিতিতেও অর্থনীতিতে স্বস্তি দিচ্ছে। করোনা সংকটের মধ্যেও ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট প্রবাসী আয় ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা দেশের প্রবাসী আয়ে সর্বোচ্চ। প্রবাসী আয়ের ভর করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভেও রেকর্ড হচ্ছে। চলতি জুলাই মাস শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
প্রবাসী আয় প্রসঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস-উল ইসলাম বলেন, সরকারের ২ শতাংশ নগদ সহায়তার কারণে প্রবাসী আয়ে উল্লম্ফন হচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি অগ্রণী ব্যাংক দেশে প্রবাসী আয় বাড়াতে অতিরিক্ত ১ শতাংশ নগদ সহায়তা দিচ্ছে। এর ফলে জুলাই মাসে অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে ৪২৩ মিলিয়ন ডলার এসেছে।
বিশ^ব্যাপী করোনা সংকটের মধ্যে গত মে মাসেও প্রবাসীরা ১৫০ কোটি ডলারের বেশি পাঠিয়েছিলেন। আর এবারের কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে দেশে জুলাই মাসে ২৬০ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। গত বছর জুলাই মাসে ১৫৯ কোটি ৭৬ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছিল।
সম্প্রতি রেমিট্যান্সে সরকারঘোষিত ২ শতাংশ প্রণোদনা প্রবাসীরা যেন সহজে পান সেজন্য বেশকিছু শর্ত শিথিল করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতদিন দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত রেমিট্যান্সের প্রণোদনায় কোনো ধরনের কাগজপত্র লাগত না। এখন এর আওতা বাড়ানো হয়েছে। গত ১ জুলাই থেকে প্রবাসীদের পাঠানো ৫ হাজার ডলার বা ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত রেমিট্যান্সে বিনা শর্তে কোনো ধরনের কাগজপত্র ছাড়াই প্রণোদনার অর্থ দেওয়া হবে। দেশে প্রবাসী আয়ের ৯০ শতাংশ আসে বিশে^র ১০টি দেশ থেকে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের জিসিসিভুক্ত ছয় দেশ থেকে ৫৮ শতাংশ রেমিট্যান্স আসে। সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় আসে সৌদি আরব থেকে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ দেশ থেকে ৪০১ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল, যা আগের বছরের চেয়ে ২৯ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরে দেশে যে পরিমাণের রেমিট্যান্স এসেছে তার ২২ শতাংশই আসে সৌদি আরব থেকে। এ সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২৪৭ কোটি ২৫ লাখ ডলার, কুয়েত থেকে ১৩৭ কোটি ২২ লাখ ডলার, ওমান থেকে ১২৪ কোটি ডলার, কাতার থেকে ১০১ কোটি ৯৬ লাখ ডলার ও বাহরাইন থেকে ৪৩ কোটি ৭১ লাখ ডলার প্রবাসী আয় আসে। দেশে প্রবাসী আয়ের তৃতীয় ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। এ দুই দেশ থেকে গত অর্থবছরে যথাক্রমে ২৪০ কোটি ৩৪ লাখ ডলার ও ১৩৬ কোটি ৪৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসে। এছাড়া গত অর্থবছরে দশম অবস্থানে থাকা সিঙ্গাপুর থেকে ৪৫ কোটি ৭৪ লাখ ডলার এসেছিল।