রাজনীতি

বিএনপি’র সাংগঠনিক ব্যর্থতায় দিশেহারা তৃণমূল নেতাকর্মী

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির রাজনীতিতে খালেদা জিয়াকে আর আগের অবস্থানে পাওয়া যাবে? এ প্রশ্ন দলটির তৃণমূল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের। এমন প্রশ্ন এখনই ওঠার কথা নয়। কিন্তু উঠছে এ কারণে যে দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। যদিও তিনি দেশে অবস্থান করছেন না। দলের সিনিয়র নেতাদের একাংশ ও তৃণমূলের কিছু নেতা স্কাইপের মাধ্যমে তারেক রহমানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। অন্যদিকে খালেদা জিয়া স্বেচ্ছায় নিজেকে রাজনীতি থেকে আড়ালে রেখেছেন। সরকারের সঙ্গে তাঁর পরিবারের সংলাপ মেনে কারামুক্ত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুলশানের ‘ফিরোজা’য় চিকিৎসা নিচ্ছেন। করোনার মহামারীর স্বাস্থঝুঁকি ও সম্প্রতি কয়েকটি মামলার শুনানির ফলে আরও সতর্কতা অবলম্বন করছেন তিনি।
দলের শুভাকাক্সক্ষীদের মতে, অসুস্থ হলেও তিনি ‘ঐক্যের প্রতীক’ হিসেবে টিকে থাকবেন।
অন্যদিকে তারেক রহমান নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় দল গোছানোর জন্য তৎপরতা শুরু করেছেন। তিনি চাইছেন, স্থায়ী কমিটিসহ সামনের সারির নেতারা তাঁর পক্ষে কথা বলুক। বিভিন্ন কমিটিতে নিজের পক্ষের লোকদের বসাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন তিনি। তাঁর এ তৎপরতা দলের সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি সব স্তরে দৃশ্যমান হচ্ছে। আবার এ কারণে দলের সিনিয়র অনেক নেতাই শঙ্কিত হয়ে ভাবছেন তারেক রহমান পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারলে বিএনপিতে তাদের ভবিষ্যৎ আর থাকবে না। তারা ভেতরে ভেতরে খালেদা জিয়াকে দলে সক্রিয় করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
এ ধরনের গ্রুপিংয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম। দিশেহার হয়ে পড়ছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। অব্যবস্থাপনার চিত্র প্রায়ই দেখা যাচ্ছে দলের বিভিন্ন কমিটিকে ঘিরে পদ-পদবি বাণিজ্যতে। বিশৃঙ্খলা দেখা যাচ্ছে পক্ষে-বিপক্ষে শোডাউন নিয়েও। এরই মধ্যে প্রায়ই ঘটছে হাতাহাতির ঘটনা।
দেশে বর্তমান যে কভিড পরিস্থিতি, বন্যা পরিস্থিতিÑ তাতে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরো সুদৃঢ় থাকার কথা ছিল; কিন্তু করোনা মহামারীর পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি’র সাংগঠনিক কার্যক্রম আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। গত ১৬ আগস্ট স্থায়ী কমিটির এক ভার্চুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইতিপূর্বে সাংগঠনিক কার্যক্রম গত ১৫ আগস্ট ২০২০ শনিবার পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছিল। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির সভায় সিদ্ধান্তক্রমে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ পর্যন্ত দেশব্যাপী সব স্তরের ইউনিটগুলোর নেতাদের সংশ্লিষ্ট কমিটির সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ, ভার্চুয়াল বৈঠক ইত্যাদির মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, তারা দলের সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। জাতীয় সংসদের পাঁচ শূন্য আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে সর্বশেষ করোনা ও বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, ‘রাজনৈতিক দলের কাজ হচ্ছেÑদেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে থেকে তাদের সাহায্য-সহযোগিতা করা। নেতার কাজ হচ্ছে জনগণের পাশাপাশি দলকে সুদৃঢ় রাখতে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা। বিএনপি’র শীর্ষ নেতৃত্ব সাংগঠনিক ব্যর্থতা ঢাকতে কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেন, যা দলের জন্য ভালো ভবিষ্যৎ তৈরি করবে না। দলের চেইন অব কমান্ড একবার ভেঙে পড়লে, তা পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে।’