প্রতিবেদন

অধ্যক্ষ কানাই লাল সরকারের অনিয়ম-দুর্নীতি আর স্বেচ্ছাচারিতায় ডুবতে বসেছে খিলগাঁও মডেল কলেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯৭০ সালের ২৪ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে যাত্রা শুরু করে খিলগাঁও মডেল কলেজ। অথচ কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ যোগদানের পর থেকে কানাই লাল সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা আর অনিয়ম-দুর্নীতিতে ডুবতে বসেছে খিলগাঁও মডেল কলেজ। অভিযোগ রয়েছে, কানাই লাল সরকার কলেজের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়মনীতি ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য না দিয়ে নিজের বাণিজ্যিক স্বার্থকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
জানা যায়, বর্তমান অধ্যক্ষ কানাই লাল সরকার ২০১১ সালে এই কলেজে যোগদানের পর ২৩ জন শিক্ষক নিয়োগ দেন। তারপর বিচ্ছিন্নভাবে আরো ২২ জন শিক্ষক নিয়োগ দেন। অতঃপর নিয়োগের মোক্ষম হাতিয়ার হয়ে উঠে ২০১৮ সাল। ওই বছর গভর্নিং বডিকে নানাভাবে ম্যানেজ করে একসাথে ৫৭ জন শিক্ষক, কর্মচারীকে শূন্যপদ/ সৃষ্টপদে/ এডহক/ খ-কালীন/ আপদকালীন পদে নিয়োগ দেয়া হয়। যদিও ৩২ জন শিক্ষক কর্মচারীর নিয়োগের জন্য বিজ্ঞাপন দেয়া হয়।
এ নিয়োগে কানাই লাল সরকার বিবিএ প্রফেশনাল বিভাগে ২ জন শিক্ষককে স্থায়ী পদে নিয়োগ দিয়েছেন। অথচ বিবিএ প্রফেশনাল বিভাগ চালু হয়েছিল ২০১৪ সালে। সে বছরের পর প্রতি বছর ছাত্র কমতে থাকে। ২০১৮ সালে মাত্র ১২ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। তারপরও বিবিএ প্রফেশনাল বিভাগে আরো শিক্ষক নিয়োগের জন্য চেষ্টা করছেন কানাই লাল সরকার। এমনকি বিবিএ প্রফেশনাল বিভাগে কলেজের সাবেক শিক্ষক ৬৮ বছর বয়সী নজরুল ইসলামকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়ে রেখেছেন। যদিও সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বেসরকারি কলেজে ৬০ বছরের ওপরে কোনোভাবেই আর কোনো শিক্ষকতা করতে পারবে না। অভিযোগ রয়েছে, নজরুল ইসলামের মাধ্যমে অধ্যক্ষ কানাই লাল সরকার প্রতি ব্যাচের প্রতি সেমিস্টারে বিবিএ প্রফেশনাল বিভাগ হতে আলাদা সম্মানী নিয়ে থাকেন।
২০১৮ সালের নিয়োগে কানাই লাল সরকার তার পূর্বের হোমনা কলেজের সহকর্মী, ক্যামব্রিয়ান কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ আহসানুল কবিরকে নিয়োগ দেন। যদিও মডেল কলেজে পরিসংখ্যান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিকে কোনো বিষয় চালু নেই। তাই আহসানুল কবিরকে বিবিএ প্রফেশনাল বিভাগে আপদকালীন শিক্ষক হিসেবে প্রথমে চাকরি দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাকে সরাসরি পরিসংখ্যান বিষয়ে নিয়োগ দেয়া হয়। যদিও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কলেজ জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ অনুযায়ী ৩৫ বছরের বেশি বয়সী প্রভাষক নিয়োগ দেয়া যাবে না। কিন্তু বয়স ৪০ বছরের বেশি হওয়ার পরও নিয়োগ পেয়েছেন আহসানুল কবির। এক্ষেত্রে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠে অধ্যক্ষ কানাই লাল সরকারের বিরুদ্ধে। অনার্সে যেসব বিভাগে পরিসংখ্যান রয়েছে, স্ব স্ব বিভাগীয় শিক্ষকরা সেসব ক্লাসগুলো করেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, আহসানুল কবির ক্যামব্রিয়ান কলেজে পরিসংখ্যানের শিক্ষক হিসেবে চাকরি পাওয়ার পরও মডেল কলেজে কর্মরত ছিল।
২০১৮ সালের নিয়োগে কানাই লাল সরকার ইংরেজি বিভাগে ৩ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। যদিও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে মাত্র ২ জন শিক্ষক নিয়োগের কথা উল্লেখ ছিল। প্রভাষক সুরাইয়া ইয়াসমিন নিয়োগ পরীক্ষার মেধা তালিকার কোনো স্থানে না থাকা সত্ত্বেও তাকে দ্বিতীয় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। ইংরেজি বিভাগের নিয়োগটি ৫৭ জনের সাথে একসাথে দেয়া হয়নি। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কানাই লাল সরকার অর্থের বিনিময়ে সুরাইয়া ইয়াসমিনকে নিয়োগ প্রদান করেন। তাই নিয়োগ পরীক্ষার প্রায় ৫ মাস পর ইংরেজি বিভাগে ২ জনের জায়গায় ৩ জন শিক্ষককে স্থায়ী নিয়োগ দেয়া হয়; যা সম্পূর্ণ অবৈধ।
২০১৮ সালের নিয়োগে রসায়ন বিভাগের প্রদর্শক লিলি বেগমকে স্থায়ী পদে নিয়োগ দেয়া হয়। অথচ এ পোস্টটি বৈধ নয়। জানা যায়, লিলি বেগমের কোনো পরীক্ষাই নেয়া হয়নি। কারণ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাউশির কোনো প্রতিনিধি তার পরীক্ষার সময় উপস্থিত ছিলেন না। কোনোরূপ পরীক্ষা ব্যতীত সম্পূর্ণ অবৈধভাবে তাকে সৃষ্টপদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, লিলি বেগমের মাধ্যমে কানাই লাল সরকার বিবিএ প্রফেশনাল বিভাগে সেজুতি রহমানকে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দিয়েছেন। এছাড়া লিলি বেগমের মাধ্যমে কানাই লাল সরকার পূর্বে আরেকজন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছিলেন। তাই নিয়োগপত্রে প্রথমে খ-কালীন দেখানো হলেও পরে লিলি বেগম কলেজে ও গভর্নিং বডির কয়েকজন সদস্যকে প্রকাশ্যে কানাই লাল সরকারকে অর্থ প্রদানের কথা বললে বর্তমান অধ্যক্ষ তাকে কোনরূপ পরীক্ষা ছাড়াই স্থায়ী পদে নিয়োগ দেন।
অধ্যক্ষের পিএস পদে নিহার বাড়ৈকে খ-কালীন নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু বিজ্ঞাপনে পদটি স্থায়ী ছিল। অনুসন্ধানে জানা যায়, অধ্যক্ষের পিএস নামে কোনো পদই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাউশির নিয়োগ পদমালায় নেই। তাই এ পদেও নিয়োগের বিপরীতে সরকারি কোনো প্রতিনিধি আসেনি। জানা যায়, নিহার তার খুব কাছের আত্মীয়। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভালো বেতনে চাকরি করতেন। তাকে নানা প্রভোলনে কলেজে নিয়ে আসেন কানাই লাল সরকার। বর্তমানে তাকে স্থায়ী করার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন অধ্যক্ষ।
২০১৮ সালে জেসমিন আক্তারকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে নিয়োগ দেয়া হয়। অথচ জেসমিন আক্তার উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কিভাবে অনার্সে নিয়োগ হয় তা নিয়ে রয়েছে ব্যাপক সমালোচনা। কিন্তু রহস্যজনক কারণে জেসমিন আক্তারকে অধ্যক্ষ আপদকালীন পদে নিয়োগ দিয়ে রেখেছিলেন। পরবর্তীতে নিয়োগ পাওয়ার পর ২০১৯ সালে কলেজে টিআর নির্বাচনে তিনি পোস্টারের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালান। যদিও সে সময় আর নির্বাচন হয়নি। পরবর্তীতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জেসমিন আক্তার ২০২০ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় টিআর পদ লাভ করেন। জানা যায়, কলেজের অধ্যক্ষ কানাই লাল সরকার টিআর নির্বাচনের সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে সকল প্রার্থীর কাছ থেকে ফর্মের সাথে প্রত্যাহারপত্রও স্বাক্ষর করে নেন। যার ফলে জেসমিন আক্তার নতুন চাকরি পেয়েই শিক্ষক নেতৃত্বে চলে আসেন।
এছাড়াও ২০১৮ সালের নিয়োগে এনটিআরসি পাস ছাড়া সমাজকর্মের প্রভাষক মীর এ কে এম বরকতসহ ২/৩ জন শিক্ষককে স্থায়ী নিয়োগ দেয়া হয়। যদিও প্রভাষক বা শিক্ষকতার ক্ষেত্রে এনটিআরসি সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক।
কানাই লাল সরকার অন্যায়ভাবে কলেজের সিনিয়র শিক্ষক মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফজলুর রহমানের সহকারী অধ্যাপকের এমপিও আবেদন আটকিয়ে রেখেছেন। যদিও তিনি রেশিও অনুযায়ী ২০১৮ সালেই সহকারী অধ্যাপকের জন্য যোগ্য হন। কিন্তু তাকে অদ্যাবধি প্রমোশনের জন্য এমপিওতে নাম পাঠাতে দিচ্ছেন না কানাই লাল সরকার। অভিযোগ সূত্রে আরো জানা যায়, কানাই লাল সরকার কলেজের অন্যতম সিনিয়র অধ্যাপক সাবিনা সুলতানা সিদ্দিকাকে তুচ্ছ কারণে পরপর ৩ বার শোকজের মাধ্যমে হয়রানি ও নানাভাবে অপমান করেন।
কানাই লাল সরকার বাংলা বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক রোকেয়া চৌধুরীকে ২০১২ সালের ১২ মে তারিখে নিজে চাকরি স্থায়ীকরণ ও কলেজের সকল সুবিধাদি প্রদান করেন। কিন্তু বর্তমানে বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান পদত্যাগ করলে বিধি মোতাবেক রোকেয়া চৌধুরীকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব না দিয়ে, খুকু রাণী বালাকে দায়িত্ব প্রদান করেন। এমনকি রোকেয়া চৌধুরীকে কানাই লাল সরকার বর্তমানে স্থায়ী শিক্ষকের পরিবর্তে এডহক শিক্ষক হিসেবে অবনতি দিয়েছেন। কিন্তু রোকেয়া চৌধুরী আর্থিকভাবে স্থায়ী শিক্ষকের সমান সকল সুযোগ-সুবিধা লাভ করছেন ২০১২ সাল হতে অদ্যাবধি, যা অধ্যক্ষ কানাই লাল সরকারের লিখিত আদেশেই চালু হয়েছে। তাহলে কিভাবে রোকেয়া চৌধুরী ২০১৯ সাল হতে এডহক শিক্ষক হয়ে গেলেন?
কলেজে ২০১৮ সালে হিসাব বিজ্ঞান ও ইসলামের ইতিহাস বিভাগে ১টি করে মোট ২টি পদ শূন্য হয়। কিন্তু কানাই লাল সরকার এসব শূন্য পদে এনটিআরসি থেকে কাউকে নিয়োগ না দিয়ে কলেজে নিয়োগপ্রাপ্ত তার পছন্দের ২ জন শিক্ষককে হরি গোপাল (হিবি) ও উম্মে কুলসুম (ইই)কে এমপিও দিতে চেয়েছিলেন। তার পছন্দের লোক ব্যতীত অন্য দুজন শিক্ষকের নাম যথাক্রমে কৌশিক আহমেদ (হিবি) এবং ফাহমিদা হোসাইন (ইই) এমপিওতে যাওয়ায় অধ্যক্ষ হরি গোপালকে কলেজের প্যাডে আবেদন করিয়ে এমপিও আটকিয়ে দেয় এবং নিয়োগে সমস্যা দেখিয়ে অদ্যাবধি উপরোক্ত বিষয়সমূহে শূন্যপদে কোন শিক্ষক নিয়োগ দেয়নি। এর কারণে ৪ জনকেই কলেজ হতে আর্থিক সুবিধা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এমপিও হলে ২ জনের জন্য বেতন স্কেলের টাকা সরকারি কোষাগার হতে পাওয়া যেত।
জানা যায়, কানাই লাল সরকারের চাকরি আছে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত। এ কারণে তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। কানাই লাল এর বিরুদ্ধে পূর্বে বিভিন্নভাবে অর্থ লোপাটের বিষয়টি সামনে এসেছিল। অডিট আপত্তিও হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে কানাই লাল সরকার সেসব থেকে নিজেকে মুক্ত করতে সক্ষম হন। জানা যায়, তিনি চাকরি পাওয়ার সাথে সাথে বেতনের সাথে অতিরিক্ত ঘরভাড়া নিয়ে থাকেন। যদিও তিনি বিধি মোতাবেক কলেজ থেকে বাড়িভাড়া পেয়ে থাকেন। কানাই লাল সরকার কলেজে চাকরি পাওয়ার পরই নিজেকে শক্তিশালী করার জন্য কলেজে তৃতীয় শ্রেণির ৪ জন কর্মচারীকে প্রথম শ্রেণিতে পদোন্নতি দেন। তাদের মাধ্যমে তিনি অর্থনৈতিকভাবে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা হাতিয়ে নেন। অধ্যক্ষ কানাই লাল সরকারসহ সকল কর্মচারী শিফটিং ভাতা ও অনার্স ভাতা নেন। কিন্তু কলেজের অন্য কোনো শিক্ষক এসব ভাতা পান না। শিক্ষকরা এসবের বিরুদ্ধে কথা বললে কানাই লাল সরকার তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান। এমনকি বর্তমান মাউশি ডিজি ড. সৈয়দ মোহাম্মদ গোলাম ফারুক তার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসমেট ও বন্ধু পরিচয় দিয়ে কলেজের সবাইকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
জানা যায়, বর্তমানে কানাই লাল সরকার কলেজে খ-কালীন, আপদকালীনসহ সকল শিক্ষক-কর্মচারীকে স্থায়ী করার জন্য রেজ্যুলেশনে পরিবর্তন আনতে চাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে ব্যাপক নিয়োগ বাণিজ্য করার প্রয়াস চালাচ্ছেন। আর এসব খ-কালীন আপদকালীনে এমনও শিক্ষক রয়েছেন, যারা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত এবং আইটি শিক্ষক পদে একজন বেক্সিমকো গ্রুপে আইটি বিভাগের উচ্চপদে রয়েছেন। ব্যক্তি স্বার্থে কানাই লাল সরকার এদের নিয়োগ দিয়েছেন। যদিও বর্তমানে কলেজের সভাপতি ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার। তবে কানাই লাল সরকার এসব কিছু ব্যাকডেট স্বাক্ষরে করার চেষ্টা করছেন। জানা যায়, কানাই লাল সরকার কলেজে ভূগোল বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ দিতে চাচ্ছেন। যদিও এ বিষয়ে কোনো সাবজেক্ট কলেজে নেই, তাই নতুন করে সাবজেক্ট অনুমোদনের জন্য কানাই লাল সরকার চেষ্টা করছেন। এমনকি পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষার্থী না থাকা সত্ত্বেও বিবিএ প্রফেশনালে ম্যানেজমেন্টের শিক্ষক ও ফিন্যান্সে শিক্ষক নিয়োগের চেষ্টা চালাচ্ছেন অধ্যক্ষ।
এছাড়াও কলেজে কোনো টেন্ডার ছাড়া একটি ভবন নির্মাণ হয়েছিল। যার নাম দেয়া হয়েছে বিজ্ঞান ভবন। জানা যায়, এ ভবনটি নির্মাণের জন্য ৪ কোটি টাকার বিল দেয়ার জন্য অধ্যক্ষ গভর্নিং বডিকে ম্যানেজ করেছেন। কলেজের এফডিআর ভেঙ্গে ৪ কোটি টাকা প্রদানের জন্য কানাই লাল সরকার চেষ্টা করছেন।
জানা যায়, কানাই লাল সরকারের পূর্বাচলে কয়েকজনের সাথে যৌথভাবে প্লট, কলেজের শিক্ষক সুজিত কুমার দে’র সাথে শেখের জায়গার আমুলিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় প্লট ও এপার্টমেন্ট, বাসাবোতে ২ কোটি টাকা মূল্যের জায়গা রয়েছে। সম্প্রতি কানাই লাল সরকার তার বড় মেয়ের বিয়েতে প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচ করেছেন। আর এসবই হয়েছে কানাই লাল সরকারের মডেল কলেজে যোগদানের পর মাত্র ৯ বছরে।
কলেজে সিডিপি কর্তৃক ৪ কোটি টাকার কাজ এসেছে। উক্ত কাজে কোনো কেনাকাটা এখনো শুরু হয়নি। অথচ কানাই লাল সরকার উক্ত কাজের পিডি হিসেবে ইতোমধ্যে ৯৭,৩৪৪/- টাকা উত্তোলন করেছেন। এছাড়াও কলেজের যেকোনো আর্থিক সুবিধায়, পরীক্ষার বিলে, বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় কানাই লাল সরকারকে আগে সবচেয়ে বেশি টাকা দিয়ে পরে পরীক্ষা পরিচালন কমিটি ও সাধারণ শিক্ষকদের সম্মানী নিতে হয়। এভাবে বিভিন্নভাবে কানাই লাল সরকার কলেজে দুর্নীতির মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা লাভ করছেন।
এদিকে খিলগাঁও মডেল কলেজের অধ্যক্ষ কানাই লাল সরকার তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে স্বদেশ খবরকে বলেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত সকল অভিযোগই ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। কানাই লাল সরকার এ প্রসঙ্গে বলেন, অধ্যক্ষ, সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী ও কলেজের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার জন্যই কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছেন। কানাই লাল সরকার বলেন, বিদ্যমান ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদন ছাড়া কলেজের কোন নিয়োগই অধ্যক্ষ এককভাবে দিতে পারেন না। বাংলা বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক রোকেয়া চৌধুরীর বিষয়ে অধ্যক্ষ কানাই লাল সরকার বলেন যে, কলেজে তাঁর যোগদানের অনেক পূর্বে সাবেক সাংসদ মির্জা আব্বাসের আমলে নিয়মনীতির কোনোরূপ তোয়াক্কা না করে এডহক ভিত্তিতে রোকেয়া চৌধুরীকে নিয়োগ দেয়া হয়। বর্তমান সময়ে তাকে স্থায়ীকরণের পরে ঘটনার সত্যতা জেনে রোকেয়া চৌধুরীকে শোকজ করা হলেও তিনি কোন জবাব না দেয়ায় সঙ্গত কারণেই তাকে পুনরায় এডহক পদে পদায়ন করা হয়েছে। আর মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফজলুর রহমানের সাথে অন্যায় আচরণ করা সংক্রান্ত অভিযোগের জবাবে কানাই লাল সরকার বলেন যে, ফজলুর রহমান নিয়মনীতি উপেক্ষা করে দুইটি ইনডেক্স ব্যবহার করার কারণেই মূলত তার ক্ষেত্রে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।
কলেজের আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে কানাই লাল সরকার বলেন, যেকোনো লেনদেনই ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদনের পর ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে সংঘটিত হয়ে থাকে। ফলে এক্ষেত্রে অধ্যক্ষের একার পক্ষে আর্থিক দুর্নীতি করার কোনো সুযোগ নেই। তবে নিয়মনীতি না মেনে ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য কর্তৃক অনৈতিক ও বেআইনিভাবে একটি কলেজ ভবন নির্মাণের কথা স্বীকার করে অধ্যক্ষ কানাই লাল সরকার বলেন, এ কারণে ওই ভবন নির্মাণের বিল এখনও পরিশোধ করা হয়নি। অবশ্য ম্যানেজিং কমিটির ওই সাবেক সদস্য গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করার পর মানবিক কারণ উল্লেখ করে ভবন নির্মাণের বিল উত্তোলনের আবেদন করেন তারই ছেলে; যা বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। তাছাড়া নিজের সম্পদ অর্জনের প্রসঙ্গে খিলগাঁও মডেল কলেজের অধ্যক্ষ কানাই লাল সরকার বলেন যে, বৈধ সম্পদের বাইরে অবৈধ কোন অর্থ-সম্পদ তাঁর নেই।