কলাম

করোনা রোধে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে সারা বিশ্ব এখনো ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখোমুখি। সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে প্রত্যেকটি খাত। মানুষের জীবনযাপনের স্বাভাবিকতাও বিঘিœত হয়েছে। মার্চের শুরু থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে লকডাউন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন অচলাবস্থা চলার পর স্বাভাবিকও হতে শুরু করেছে বিশ্ব। কিন্তু করোনার সংক্রমণ ও আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এখনো বন্ধ হয়নি। বাংলাদেশেও সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা নিরাপদসীমার বাইরে। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার ছয় মাসের মাথায় সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা সাড়ে চার হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
প্রসঙ্গত বলা দরকার, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত ৮ মার্চ, তার ১০ দিনের মাথায় ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। প্রায় এক মাস পর ২০ এপ্রিল মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছিল। এরপর ১০ জুন মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়ায়। করোনা ভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর ৮৫ দিন পর ৫ জুলাই মৃতের সংখ্যা দুই হাজারের ঘর ছাড়িয়ে যায়। এরপর ২৮ জুলাই সেই সংখ্যা তিন হাজার স্পর্শ করে। তারপর ২৫ আগস্ট মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়ে যায়।
সংশ্লিষ্টদের বিবেচনায় নিতে হবে, করোনা ভাইরাস এখনো নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেই; যেকোনো সময় এর প্রকোপ বাড়তে পারে। কারণ, ঢিলেঢালা নজরদারির ফলে অনেকেই অকারণে ঘোরাঘুরি করছে, মাস্ক পরছেন না। এছাড়া দেশে করোনা ভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা নিয়ে নানামুখী বিতর্ক এক সময়ে জালিয়াতি ও ভুয়া টেস্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। তাই, করোনা প্রতিরোধে যেমন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখতে হবে, তেমনিভাবে সচেতনতার বিষয়টিও অগ্রগণ্য। আমাদের মনে রাখা দরকার, সচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা কঠিন। করোনার সংক্রমণে দেশে মৃত্যু সাড়ে চার হাজার ছাড়ালÑ এই বিষয়টিকে সামনে রেখে সর্বাত্মক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখতে হবে।
সারা বিশ্বে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বিভিন্ন স্থানে লকডাউন করা হয়েছে, তেমনি তা শিথিল করা হচ্ছে জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে। করোনা রোধের উপায় খুঁজতে যেমন নানা ধরনের প্রচেষ্টা চলছে, তেমনি এর প্রভাবসংক্রান্ত নানা বিষয়ে গবেষণাও হচ্ছে। আমরা মনে করি; এ বিষয়গুলোকে সামনে রেখে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
সর্বোপরি বলতে চাই, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনা ভাইরাস। উৎপত্তিস্থল চীনে ৮৩ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে গেছে। স্বাভাবিক হতে চলেছে সেখানকার সকল কার্যক্রম। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে বলেও জানা যাচ্ছে। আশার কথা হচ্ছে, বাংলাদেশে এখন আক্রান্তের পর সুস্থ হওয়ার হার দ্রুত বাড়ছে। এ সুখবর ধরে রাখতে দেশের সামগ্রিক করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে করোনা রোধে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে।