রাজনীতি

খালেদা জিয়া কি আসলেই লন্ডন যেতে চান?

নিজস্ব প্রতিবেদক
উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়া নির্ভর করছে সরকারের সিদ্ধান্ত ও করোনা পরিস্থিতির ওপর। একই সঙ্গে বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে তার নিজের সিদ্ধান্তের বিষয়ও আছে। তবে তার চিকিৎসকরা বলছেন, বর্তমানে খালেদা জিয়ার যে শারীরিক অবস্থা, তাতে দেশে উন্নত চিকিৎসা সম্ভব নয়, বিদেশেই চিকিৎসা নিতে হবে।
বিএনপির নেতারা বলছেন, ‘খালেদা জিয়ার পরিবার, দলের নেতা ও চিকিৎসকরা চান তিনি বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণ করুন। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে তিনি এখন পর্যন্ত কোনও কথা বা কোনও সিদ্ধান্তের বিষয়ে বলেননি। তবে রোগী হিসেবে নিশ্চয় তিনিও চাইবেন উন্নত চিকিৎসা। আর উন্নত চিকিৎসা গ্রহণ করতে হলে তাকে বিদেশেই যেতে হবে। ফলে, পরিবার যেহেতু তার বিদেশে চিকিৎসা করাতে চায়, এখন সরকারের পক্ষ থেকে অনুমতি পাওয়া এবং করোনা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে তার যাওয়ার বিষয়টি।’
এদিকে দেশে থেকে চিকিৎসা নেওয়া, কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচীতে অংশ না নেওয়া এবং বিদেশ না যাওয়ার শর্তে প্রথমবার সাজা স্থগিত করে যে আদেশ হয়েছিল, এবারও এসব শর্ত বহাল রেখে সাজা স্থগিতে মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আইন মন্ত্রণালয় মতামত দিয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেওয়া দুই মামলার দণ্ড স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর সম্মতি দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।
এ বিষয় নিশ্চিত করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, এ সংক্রান্ত ফাইল অনুমোদন দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
আনিসুল হক বলেন, দেশে থেকে চিকিৎসা নেওয়া, কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচীতে অংশ না নেওয়া এবং বিদেশ না যাওয়ার শর্তে প্রথমবার সাজা স্থগিত করে যে আদেশ হয়েছিল, এবারও এসব শর্ত বহাল রেখে সাজা স্থগিতে মেয়াদ বাড়ানোর জন্য মতামত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।
তিনি বলেন, এবারের আবেদনে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে খালেদার পরিবার থেকে যে আবদার করা হয়ে তা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
আইন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, খালেদার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়াতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে খালেদার পরিবারের পক্ষ থেকে যে আবেদন করা হয়েছে, সেটির ওপর মতামত নিতে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আইন মন্ত্রণালয় যে মতামত দিয়েছে তা ‘সামারি’ আকারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরপর এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মতামত নেওয়ার পর এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হবে।
তবে আইন মন্ত্রণালয়ের আরেকটি সূত্র বলেছে, এসব বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় যে মতামত দেয়, প্রধানমন্ত্রী সাধারণত তা বহাল রেখেই প্রজ্ঞাপন জারি করেন।
সূত্রটি জানিয়েছে, সে হিসেবে বলা যায়, খালেদার সাজা স্থগিতের মেয়াদ ছয় মাস বাড়ছে।
দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে গত ২৫ মার্চ নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার। তার দণ্ডের কার্যকারিতা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হলে তিনি কারামুক্ত হন। ওই মুক্তির মেয়াদ ২৪ সেপ্টেম্বর শেষ হচ্ছে। তার আগেই বিএনপি চেয়ারপারসনের পরিবারের পক্ষ থেকে তার ভাই শামীম এস্কেন্দার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন করেন। তাতে তার অসুস্থ বোনের কারামুক্তির পদক্ষেপ নিতে সরকারকে আহ্বান জানান তিনি।
প্রথমবার খালেদা জিয়াকে ছাড়ার সময় নিয়ম অনুযায়ী আইন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ বিবেচনায় নিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাই শামীমের আবেদনও পাঠানো হয় সেখানে।