প্রতিবেদন

নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে সজাগ হলো ডিএনসিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনাকালীন সরকারি নজরদারির অভাবের সুযোগে সাধারণ ব্যবসায়ীরা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড স্থাপন করে ঢাকা নগরকে জঞ্জালে পরিণত করে ফেলেছে। দীর্ঘ ছুটির ঢিলেঢালা আমেজের অবসান দিয়ে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে নড়েচড়ে বসেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। তারই অংশ হিসেবে ডিএনসিসি এলাকায় আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে অবৈধ বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন, প্রজেক্ট সাইন, শপ সাইন অপসারণে মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হবে। তবে এ সকল অবৈধ সাইনবোর্ড, প্রজেক্ট সাইন, শপ সাইন ইত্যাদির অনুমোদন নেয়ার জন্য ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেয়া হবে। এছাড়া ২০২১ সালের নববর্ষে নগরবাসীর জন্য উপহার হিসেবে সড়কে এলইডি বাতি দিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এ নগরপিতা।
মেয়র মো. আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এক ভার্চুয়াল প্রস্তুতিমূলক সভায় আতিকুল ইসলাম বলেন, ডিএনসিসি এলাকায় কেউ কেউ অবৈধভাবে বিলবোর্ড স্থাপন করে বিজ্ঞাপন প্রচার করছেন। এছাড়া অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রিয়েল এস্টেট কোম্পানি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ডিএনসিসির অনুমোদন ব্যতীত শপ সাইন, প্রজেক্ট সাইন, সাইনবোর্ড, প্যানাফ্লেক্স, ব্যানার, ফেস্টুন ইত্যাদি ব্যবহার করছেন। আবার প্রতিটি দোকানে একটি করে সাইনবোর্ড ব্যবহারের কথা থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে একাধিক সাইনবোর্ড ব্যবহার করছেন। এছাড়া অনেকে নির্ধারিত মাপের চেয়ে বড় সাইনবোর্ড ব্যবহার করছেন। এর ফলে নগরীর সৌন্দর্যহানির পাশাপাশি ডিএনসিসি রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
আগামী ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সকলকে সকল অনুমোদনহীন বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড, প্রজেক্ট সাইন, শপ সাইন, প্যানাফ্লেক্স, ব্যানার, ফেস্টুন স্ব-উদ্যোগে ডিএনসিসির রাজস্ব বিভাগ থেকে অনুমোদন গ্রহণ করার জন্য মেয়র আতিকুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানান।
অন্যথায় আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে অনুমোদনহীন বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড, প্রজেক্ট সাইন, শপ সাইন, প্যানাফ্লেক্স, ব্যানার, ফেস্টুন ইত্যাদি অপসারণের লক্ষ্যে মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। উল্লেখ্য, এ বিষয়ে জনগণের অবগতির জন্য মাইকিং এবং গণমাধ্যমে গণবিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হবে। পাশাপাশি ফুটপাত ও সড়কে অবৈধভাবে রাখা নির্মাণ সামগ্রী ও অন্যান্য স্থাপনা অপসারণে তাৎক্ষণিক নিলাম কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
নগরে এলইডি বাতির স্থাপন প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেছেন, ২০২১ সালের নববর্ষে নগরবাসীর জন্য উপহার হিসেবে সড়কে এলইডি বাতি দিতে চাই।
তিনি ডিএনসিসির গুলশানস্থ নগর ভবনে এলইডি লাইট স্থাপনে ডিএনসিসি ও বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ)’র মধ্যে এক চুক্তিও স্বাক্ষর করেছেন।
এলইডি সড়ক বাতি স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ডিএনসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম এবং বিএমটিএফ’র মহাব্যবস্থাপক (বিপনন) লে. কর্নেল তোফায়েল আহমেদ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৪২ হাজার ৫০০ লাইট ২০২১ সালের মধ্যে স্থাপন করতে পারবো। নগরবাসীর জন্য এটি হবে ২০২১ সালে নববর্ষের উপহার। জানুয়ারি মাসের ১ তারিখে ডিএনসিসির কিছু অংশে এ লাইট জ্বলবে। নগরবাসীর জন্য নিরাপদ ঢাকা শহর করার জন্য আমরা যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলাম, সেই প্রত্যয়ের মধ্যে এটি হলো, ঢাকা শহরকে আলোকিত করে উজ্জ্বল রাখা। আমরা যে লাইটগুলো স্থাপন করছি তার প্রত্যেকটা ইউরোপের তৈরি। এগুলোর প্রত্যেকটির ১০ বছরের ওয়ারেন্টি পিরিয়ড দেয়া আছে। বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি কাজটি সুচারুরূপে বাস্তবায়ন করবে। ওয়ারেন্টি পিরিয়ডে রক্ষণাবেক্ষণের কাজটিও বিএমটিএফ করবে।’
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এলইডি সড়ক বাতি সরবরাহ ও স্থাপন (১ম সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পটি গতবছর ২ সেপ্টেম্বর পরিকল্পনা কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত হয়। সংশোধিত প্রকল্প ব্যয় ৩৬৯ কোটি ১৪ লাখ ৩২ হাজার টাকা। মূল প্রকল্পে ৪২ হাজার ৪৫০টি সড়ক বাতি স্থাপনের কথা থাকলেও সংশোধিত প্রকল্পে ৪৬ হাজার ৪১০টি এলইডি বাতি স্থাপন করা হবে।
এর মধ্যে ১৫০ ওয়াটের ৩ হাজার ৪০৮টি; ১২০ ওয়াটের ৩ হাজার ৬৪৬টি; ৯০ ওয়াটের ৩ হাজার ২৯টি; ৬০ ওয়াটের ১০ হাজার ৬৬৬টি; ৪০ ওয়াটের ২৫ হাজার ৬৬১টি এলইডি বাতি স্থাপন করা হবে। এলইডি সড়ক বাতি স্থাপন বাবদ ৩১৯ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা ব্যয় হবে।
এর মধ্যে রয়েছে বাতি ক্রয়, পোল ক্রয় ও স্থাপন, ব্র্যাকেট, ফিটিংস, কন্ট্রোলিং সিস্টেম, সফটওয়ার, ওভারহেড ক্যাবলস ইত্যাদি। সড়ক বাতিগুলো পোল্যান্ড থেকে ক্রয় করা হচ্ছে। অবশিষ্ট ৪৯ কোটি ৪০ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা ব্যয় হবে হাইড্রোলিক গাড়ি ও অন্যান্য গাড়ি, যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং অন্যান্য খরচ বাবদ। সমগ্র প্রকল্পটির কাজ চলতি বছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে সময় কয়েক মাস বেশি লাগতে পারে।