ফিচার

মাছের রাজা ইলিশের দেশে একদিন

স্বদেশ খবর ডেস্ক
মাছের রাজা ইলিশ; জাতীয় মাছ ইলিশ; স্বাদের সেরা ইলিশÑ এ জাতীয় বিশেষণে ইলিশকে ডাকা হয়। সেই ইলিশের দেশ কোথায় তা কি আমরা জানি? চলুন ঘুরে আসি ইলিশের দেশ থেকে। ইলিশের জন্য যে চাঁদপুর বিখ্যাত সে কথা সবারই জানা।
ইলিশের স্বাদে মন মাতানোর জন্য ঢাকা থেকে ডে লং ট্যুর হিসাবে চাঁদপুর ভ্রমণ বেশ জনপ্রিয়। ঢাকা থেকে লঞ্চে করে চাঁদপুর যেতে প্রায় চার ঘণ্টা সময় লাগে। খুব সকালে রওনা হয়ে চাঁদপুর গিয়ে রাতে ঢাকা ফিরে আসা যায়।
মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে এসে ইলিশে ভরপুর চাঁদপুরের মাছঘাটে। ইলিশ বেচাকেনায় কর্মমুখর ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। দাম নাগালের মধ্যে থাকায় বাজারে এসে ক্রেতারাও সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন।
চাঁদপুরে মৌসুমের শুরু থেকে ইলিশের দেখা না পেলেও বর্তমানে মাছে ভরপুর। দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও সাগর মোহনায় জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ। ধরা পড়া ইলিশ নৌকা ও ট্রাকে করে চাঁদপুরের বড়স্টেশন মাছঘাটে নিয়ে আসছেন জেলেরা। একই সঙ্গে চাঁদপুরের জেলেরাও আগের চেয়ে বেশি মাছ পাচ্ছেন নদীতে। বাজারে ইলিশের সয়লাবে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মাঝে।
বাজারে ইলিশ কিনতে আসা ক্রেতারা বলেন, বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে বর্তমানে ইলিশের দাম তুলনামূলক কিছুটা কম রয়েছে। এতে করে আমরা ইলিশের স্বাদ নিতে পারছি। তবে স্থানীয় নদীর ইলিশ কম থাকায় এর দাম কিছুটা বেশি।
বর্তমানে ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজিপ্রতি ৫০০ টাকা, ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রামের ইলিশ কেজিপ্রতি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া এক কেজি সাইজের ইলিশ ৭০০ থেকে ৭৫০ এবং দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকা দরে। স্থানীয় নদীর ইলিশ প্রকারভেদে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
চাঁদপুর আসবেন আর সদরের বড়স্টেশন মোলহেড নদীর মোহনায় আসবেন না এমন হতেই পারেন না। তিন নদীর মোহনায় কাটানো সময়গুলো আপনার স্মৃতিতে অমলিন থাকবে নিশ্চিতভাবেই। আরো দেখতে পারেন মিনি কক্সবাজার, চাঁদপুর জেলার ঐতিহ্যের প্রতীক ইলিশ চত্বর, অঙ্গীকার ভাষ্কর্য, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন মুক্তিযুদ্ধের স্মারক, রূপসা জমিদার বাড়ি ইত্যাদি। আর চাঁদপুরের সৌন্দর্য্য ইলিশের মোকাম বা বাজারটি বড় স্টেশনের কাছেই তাই বিকেলের সময়টা নদী মোহনায় কাটিয়ে সন্ধায় চলে যেতে পারেন ইলিশ বাজারে। পছন্দমতো রূপালি ইলিশ কিনে সাথে নিয়ে আসার জন্যও আছে সুব্যবস্থা এখানে।
ইলিশ খেতে চাইলে চাঁদপুর বড় ষ্টেশন থেকে ট্রলার অথবা নৌকায় করে রাজরাজেশ্বর চর চলে আসুন। চাঁদপুর বড় ষ্টেশন হতে এই চরের আসতে ৩০ মিনিট সময় লাগে। পদ্মা, মেঘনা নদী আর ডাকাতিয়া নদীর মোহনা কোড়ালিয়ার মুখে মিলছে যা এই চর থেকে দেখতে পারবেন। রাজরাজেশ্বর চরের ঘাট থেকে অল্প দূরে অবস্থিত মনু মিয়ার হোটেলে ইলিশ ভাজা, ইলিশ মাছের ডিম কিংবা ইলিশের তরকারি খেতে পারবেন।
এছাড়াও চাঁদপুর বড় ষ্টেশনের ইলিশ বাজার থেকে পছন্দের ইলিশ কিনেও খাওয়ার সুযোগ রয়েছে। দপুর বড় স্টেশন মোকামে বরিশাল, ভোলা এবং সামুদ্রিক ইলিশও পাওয়া যায়। আপনি যদি চাঁদপুরের ইলিশ চান তবে চকচকে রূপালি রং দেখে ইলিশ কিনবেন। সমুদ্রের ইলিশে রূপালি রঙের সাথে এক ধরনের লালচে আভা থাকে।

চাঁদপুর যাওয়ার উপায়
ঢাকা থেকে চাঁদপুর যাওয়া যায় বাসে, ট্রেনে ও লঞ্চে। তবে সবচেয়ে ভালো হবে লঞ্চে করে গেলে। এতে একদিনে ভ্রমণের মজাটা আরও বেড়ে যাবে। ঢাকা-চাঁদপুর রুটে চলাচলকারী লঞ্চের মধ্যে এমভি সোনারতরী, এমভি তাকওয়া, এমভি বোগদাদীয়া, এমভি মেঘনা রাণী, এমভি আল বোরাক, এমভি ঈগল, এমভি রফরফ, এমভি তুতুল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
প্রতিদিন সদরঘাট থেকে সকাল ৭টা থেকে এক বা হাফ ঘণ্টা পরপর চাঁদপুর গামী লঞ্চ ছেড়ে যায়। ঢাকা থেকে চাঁদপুর যাওয়ার ভাড়া সাধারণত, ডেক ১০০ টাকা, চেয়ার ১৫০ টাকা, নন এসি সিংগেল কেবিন
৫০০ টাকা, নন এসি ডাবল ৮০০ টাকা, সিঙ্গেল এসি ১০০০ টাকা এবং এসি ডাবল ১৫০০-২০০০ টাকা। লঞ্চে ঢাকা থেকে চাঁদপুর যেতে সময় লাগে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা।

ফিরে আসবেন যেভাবে
চাঁদপুর ঘুরে দেখা শেষ হলে আগের মতো লঞ্চেই ফিরে আসুন। বিকেল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চাঁদপুর থেকে ঢাকায় ফিরে আসার লঞ্চ পাওয়া যায়। আপনার সুবিধামতো সময়ের লঞ্চে করে ঢাকা ফিরে আসুন।